একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও রাজনৈতিক ঐকমত্য বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে। অতীত শাসনের স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তম্ভ—বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এবং সংবিধানে আমূল সংস্কার আনা এখন সময়ের দাবি। তবে এই রূপান্তর কেবল কাগজের কলমে বা সাময়িক কোনো উদ্যোগে সফল হতে পারে না; এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জাতীয় ঐক্য।
বাংলাদেশের ইতিহাসে যেকোনো বড় অর্জনের পেছনে জাতীয় ঐকমত্যের একটি বড় ভূমিকা ছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক কাদা-ছোড়াছুড়ি এবং ক্ষমতা 중심ী রাজনীতি সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। রাষ্ট্রকে জবাবদিহিমূলক করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের অভ্যন্তরেও গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়াতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে যদি এই বিষয়ে সাধারণ ন্যূনতম একটি সমঝোতা বা ‘ঐকমত্য’ তৈরি না হয়, তবে যেকোনো ভালো সংস্কার উদ্যোগও পরবর্তী সময়ে সংকটের মুখে পড়তে পারে।
আজকের তরুণ প্রজন্ম একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা দেখতে চায়। এই প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একসাথে বসতে হবে। অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য প্রতিটি রাজনৈতিক শক্তিকে এক কাতারে আসা জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল একটি আধুনিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। আর এই সংস্কারকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ দিতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের কোনো বিকল্প নেই। দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থে এই ঐক্য গড়ে তোলাই হোক আমাদের আগামী দিনের মূল অঙ্গীকার।