সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বর্তমান সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের জন্য এই সমীকরণটি অত্যন্ত জটিল।
- মিয়ানমার সীমান্ত ও রাখাইন পরিস্থিতি: মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ, বিশেষ করে আরাকান আর্মির (AA) শক্তিশালী হয়ে ওঠা এবং জান্তা বাহিনীর ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশ সীমান্তে বড় প্রভাব ফেলছে। প্রায়শই ওপার থেকে ছোড়া গোলা বাংলাদেশে এসে পড়ছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
- রোহিঙ্গা সংকট ও নিরাপত্তা হুমকি: বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর কারণে কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানব পাচার, মাদক চোরাচালান এবং অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার ঘটছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট এখন কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, বরং চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
- ভারত সীমান্ত ও শিলিগুড়ি করিডোর: তিন দিক থেকে ভারতকে ঘিরে থাকা বাংলাদেশের সীমান্ত নীতি ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা এবং সীমান্তে চোরাচালান বা অনুপ্রবেশ বন্ধে ভারতের কড়া নজরদারি রয়েছে।
- মহাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা: বঙ্গোপসাগরের ওপর নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় এবং এই অঞ্চলের বিকল্প জ্বালানি ও অর্থনৈতিক করিডোর তৈরি করতে চীন ও ভারতের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। এই বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার মাঝেই বাংলাদেশকে নিজের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখতে হচ্ছে।