মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যবর্তী উত্তেজনা এক নতুন ও মারাত্মক মোড় নিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। 

রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করে, লারাক দ্বীপে আইআরজিসির দুটি রকেট লঞ্চার হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইন বর্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সম্ভাব্য হুমকি নস্যাৎ করতে মার্কিন বাহিনী সেখানে হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন ইরানি যোদ্ধা ও বেসামরিক নাগরিক হতাহত হন বলে নিশ্চিত করে তেহরান। গত এক মাসের মধ্যে ইরানি ভূখণ্ডে এটিই প্রথম সরাসরি মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ। 

মার্কিন আগ্রাসনের চরম প্রতিক্রিয়া হিসেবে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স জর্ডানের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে যৌথ হামলা চালায়। ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, “আগ্রাসনকারীর শাস্তি” নামক এই অভিযানে মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন স্থান ও কারিগরি অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে। 

প্রতিশোধমূলক এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে ২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মার্কিন প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও এই সংঘাত পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে আবারও এক পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দোরগোড়ায় ঠেলে দিয়েছে।